হিরোস অব ৭১
র্টফোন: শৈশব-কৈশোরের স্মার্ট-স্টেডিয়াম

র্টফোন: শৈশব-কৈশোরের স্মার্ট-স্টেডিয়াম

বিকেলে হলেই ব্যাট-বল নিয়ে মহল্লার মাঠে নেমে পড়া বা বৃষ্টি-বাদলে ঘরে বসেই ক্যারম, লুডু খেলা, অবসরে টিভি ছেড়ে কার্টুন দেখা, স্কুলের মাঠে সহপাঠীদের সঙ্গে হা-ডু-ডু, মোরগ লড়াই, লং জাম্প, বোম্ব বাস্টিংয়ে রঙিন হয়ে উঠতো শৈশব। এর ফাঁকে অনেকেই মাঠে নয় খুপরি দোকানে পা বাড়াতো ভিডিও গেম খেলতে। টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে ছুটে যেত মোস্তফা ও ডাবল ফাইট কিংবা ভাইস সিটি খেলতে। কন্ট্রোলার হাতে ভিডিও গেমের সে কি উত্তেজনা! এরইমধ্যে সিডি কিনে ঘরে বসেই ডেস্কটপ পিসিতে শুরু হয় গেম খেলার চল। পাজল গেম ছাপিয়ে ভার্চুয়াল গেমের পসার বাড়তে থাকে।

এরইমধ্যে স্কুলগুলো তরতরিয়ে ওপরে বাড়লেও প্রশস্ততায় কমতে থাকে। শহুরে জীবনে দেখা দেয় খোলা মাঠের হাহাকার। ফলে অল্প দিনেই পিসির পর্দা হয়ে ওঠে খেলার মাঠ। শৈশব-কৈশোরের খেলনায় যুক্ত হয় নানান গেমিং কনসোল। অন্যদিকে ফিচার ফোনে পিং বল, সাপের খেলার মতো গেমে বয়সীরাও মেতে ওঠেন। পোকেমন গোর মতো বৈশ্বিক গেমের তালিকার পাশাপাশি বাংলাদেশের মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশনের টিক ট্যাক টয় ও গো গো টাইগার আদরণীয় হয়ে ওঠে। একই সময় ব্রাউজার ও ওয়েবভিত্তিক গেমে মনোযোগী হয়ে ওঠেন মাঝবয়সীরা। ২০০৯ সালের দিকে শাপলা অনলাইনের উন্নয়ন করা রাইভালটি, ব্যান্ডটাইকুন ও কমান্ডস্টার তাদের অনেকের কাছে বেশ পরিচিত। আরগু ভেনচারের তৈরি পপ টু স্পেল কিডস, ফান রক মিডিয়ার ব্রাউজারভিত্তিক গেম (মোবাইল, কম্পিউটার ও ফেসবুকের মাধ্যমে খেলা সম্ভব) কমান্ডস্টার, রাইভালটি ও ব্যান্ডটাইকুন বাংলাদেশের গেমের ইতিহাসে মাইলফলক বলা যায়।  
কেবল বড়রা নয়, হালে ইন্টারনেট সংযোগে অনলাইন গেমিং রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে নতুন প্রজন্মেরও। সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে পুল খেলাটা শহুর হয়ে ওঠে। চলতি দশকের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে শিশু-কিশোরদের খেলার ময়দান হয়ে ওঠে স্মার্টফোন। ৫-৬ ইঞ্চি পর্দার এই ডিভাইসে স্পর্শ অনুভূতি যুক্ত হওয়ায় জমে ওঠে ক্লাস অব ক্ল্যান, মিনি মিনি শেয়ার। ক্রিকেট, ফুটবল ও রেসিংয়ের তুমুল জনপ্রিয়তার মধ্যেই গেমের রাজ্যে যোগ হয়েছে লুডু ফ্রেন্ডস। প্রতিদিনই অ্যাপের মাধ্যমে বিকশিত হচ্ছে বিষয় বৈচিত্র্যময় মোবাইল গেম। জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রাইজ-আপ ল্যাবের ট্যাপ ট্যাপ ট্যাপ মার্বেল, লাভার ফ্রগ, ঘোস্ট সুইপারফল রেইনি, আইওয়্যারহাউস, গ্লুবার, শুট দ্য মানকি, ফ্রুইটিটো ও বাবল অ্যাটাক, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশনের তৈরি লিটল তন্ময়, ম্যাডমেটিক্স ও মানকি জাম্প।
মোবাইল গেমে বাংলাদেশ  
ভার্চুয়াল বাস্তবতার পর মোবাইল গেমিং রাজ্যে শুরু হয়েছে অগমেন্টড বাস্তবতার ধারা। সেই ধারায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। অগমেন্টেড রিয়েলিটি বাস্কেট বল গেম অবমুক্ত করেছে ব্যাটারি লো ইন্টারঅ্যাকটিভ। কিশোরদের কাছে আদরণীয় হয়ে উঠেছে রাইজ-আপ ল্যাবস-এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক এআর অ্যাপ-১৯৫২।
বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ক্লাস অব ক্লানস, ক্লাস রয়েল, পিনআউট, পিউইউ ব্যাটেল গ্রাউন্স গেমের পাশাপাশি এখন দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে নির্মিত হচ্ছে বেশ কিছু মোবাইল গেম। এই গেমের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেম রয়েছে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। জনপ্রিয়তার শীর্ষ তালিকায় রয়েছে মিনা, মুক্তিক্যাম্প, হিরোস অব ৭১, ওরা ৭১, ক্রিকেট বাংলাদেশ, গেরিলা ব্রাদার্স, হাইওয়ে রেসিং ফ্যান্টাসি, দ্য কমান্ডো। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব দুয়ারে মোবাইল গেমে বাংলাদেশের কদর বাড়িয়েছে ট্যাপ ট্যাপ অ্যান্ট গেম।
টিপ ট্যাপ অ্যান্ট: টিপ ট্যাপ অ্যান্ট গেমটি খেলেনি এমন আইফোন ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। আঙুলে টিপে পিঁপড়া মেরে এর হাত থেকে খাবারকে হেফাজত করার মতো মজার কাহিনি নিয়ে তৈরি গেমটির গ্রাফিকসের মান এত উন্নত যে একে সিলিকন ভ্যালির তৈরি গেম বলেই মনে হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, গেমটি তৈরি করেছে দেশি প্রতিষ্ঠান রাইজ-আপ ল্যাবস। এক মিনিট সময় ছাড়াও সব পিঁপড়া মারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এই গেমটি। গেমটি ইতোমধ্যেই দেড় কোটিরও বেশি ডাউনলোড হয়েছে।
ট্যাপ ট্যাপ অ্যান্ট গেম
মিনা: মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন (এমসিসি) এবং রাইজ-আপ ল্যাবের যৌথ উদ্যোগে অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে কার্টুন থেকে গেমে আত্মপ্রকাশ করেছে মিনা। শিশুদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় ১৪টি ধাপের এই গেম এখন পর্যন্ত ১০ লাখবারের চেয়েও বেশি ডাউনলোড হয়েছে।
মুক্তি ক্যাম্প: ক্ল্যাস অব ক্ল্যানস ঘরানার স্ট্র্যাটেজি নির্ভর গেম একমাত্র বাংলাদেশি গেম মুক্তিক্যাম্প। দেশে জনপ্রিয়তায় ক্যান্ডিক্র্যাশ সাগাকে টপকানো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মোবাইল গেমটি নির্মাণ করেছে মাইন্ড ফিশার। গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ১০ পর্বের গেমটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটি মোবাইলের ব্যালেন্স থেকেই কিনতে পারেন গ্রামীণফোন ব্যবহারকারীরা। গেমটি ৩ লাখের ওপর ডাউনলোড হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির তৈরি বিনামূল্যের হিরোজ অব ৭১ ও হিরোজ অব ৭১: রিটেলিয়েশনও বেশ জনপ্রিয়। 
ওরা ১১ জন: মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আলোচিত একটি চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন। ডিজিটাল এই যুগে এসে একাত্তরের রণাঙ্গনের বাস্তব ঘটনাকে উপজীব্য করে তৈরি করা হয়েছে মোবাইল গেম। আর তার নামও দেওয়া হয়েছে ওরা ১১ জন। মুক্তিযুদ্ধে দেশকে যে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল, সেই পটভূমি নিয়েই তৈরি করা হয়েছে গেমটি। ব্যাবিলন রিসোর্সেস লিমিটেডের তৈরি এই গেমটি ইতোমধ্যেই রিভিউতে ৪ তারকা পেয়েছে। 
মীনা গেম
গেরিলা ব্রাদার্স: দেশের প্রথম কো-অপ মাল্টিপ্লেয়ার্স থার্ড পারসন শুটিং গেম গেরিলা ব্রাদার্স। দুজন পাশাপাশি থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ওপর বানানো গেমটি খেলতে পারবেন। এটি উন্নয়ন করে বনি ইউসুফ। তিনটি সংস্করণে গেমটি এক লাখের ওপর ডাউনলোড হয়।  
পোস্টি কেমন লাগল তা কমেন্টএ জানাতে ভুলবেন না আর ভালো লাগলে অবশ্যই একটা লাইক দিবেন । তাহলে আরো ভালো ভালো গেম  এপ নিয়ে পোষ্ট করব!